বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরের নকআউট পর্ব যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে প্রতিটি সিদ্ধান্তের গুরুত্ব। কোয়ার্টার ফাইনালে শুধু জয় পেলেই হবে না, অনেক ফুটবলারের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে হলুদ কার্ড এড়িয়ে মাঠ ছাড়াও। কারণ শেষ আটের লড়াইয়ে আর একটি হলুদ কার্ড দেখলেই সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেলার সুযোগ হারাতে পারেন অন্তত ১৮ জন ফুটবলার।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড এবং আফ্রিকার শক্তিশালী দল মরক্কো। দুই দলেরই চারজন করে ফুটবলার ইতোমধ্যে একটি করে হলুদ কার্ড বহন করছেন। ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহ্যাম, মার্ক গেয়ি ও নিকো ওরাইলিসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন খেলোয়াড়কে কোয়ার্টার ফাইনালে বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে। একই পরিস্থিতিতে রয়েছে মরক্কোর চার তারকাও। ফলে সেমিফাইনালের স্বপ্ন টিকিয়ে রাখতে তাদের প্রতিটি ট্যাকল ও চ্যালেঞ্জ হিসেব করেই করতে হবে।
ঝুঁকির তালিকায় এরপরই রয়েছে দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। দলটির মানু কোনে, মাইকেল ওলিসে ও ব্রাডলি বারকোলা একটি করে হলুদ কার্ড নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে নামছেন। ফলে এই ম্যাচে আরেকটি কার্ড দেখলে সেমিফাইনালে তাদের পাওয়া যাবে না।
আরও পড়ুন :
মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চট্টগ্রামের সব জেলার শনিবারের পরীক্ষা স্থগিত
অন্যদিকে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, স্পেন, নরওয়ে ও বেলজিয়ামের একজন করে ফুটবলারও একই শঙ্কায় রয়েছেন। আর্জেন্টিনার গঞ্জালো মন্টিয়েলসহ এসব খেলোয়াড়কে কোয়ার্টার ফাইনালে অযথা ঝুঁকি নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
তবে দলগুলোর জন্য স্বস্তির খবরও রয়েছে। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, কোয়ার্টার ফাইনাল শেষে আগের হলুদ কার্ডের হিসাব বাতিল হয়ে যাবে। অর্থাৎ শেষ আটের ম্যাচে নতুন করে হলুদ কার্ড না দেখলে সেমিফাইনাল কিংবা সম্ভাব্য ফাইনালে কার্ডজনিত নিষেধাজ্ঞার কোনো শঙ্কা থাকবে না।
তবে নিয়মের একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রমও রয়েছে। কোনো ফুটবলার যদি কোয়ার্টার ফাইনালে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন অথবা দুই হলুদ কার্ডের কারণে লাল কার্ড পান, তাহলে নিয়ম অনুযায়ী তাকে অন্তত এক ম্যাচের জন্য সেমিফাইনালে নিষিদ্ধ থাকতে হবে। তাই শেষ আটের প্রতিটি ম্যাচে জয়ের লড়াইয়ের পাশাপাশি শৃঙ্খলা বজায় রাখাও হয়ে উঠেছে দলগুলোর জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ।